কম দামি চীনা গাড়ি ঠেকাতে ফি বাড়িয়েছে রাশিয়া

কম দামি চীনা গাড়ির স্রোত ঠেকাতে নতুন করে ফি বাড়িয়েছে রাশিয়া, যা কিনা মিত্র দেশের গাড়ি নির্মাতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ধাক্কা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

কম দামি চীনা গাড়ির স্রোত ঠেকাতে নতুন করে ফি বাড়িয়েছে রাশিয়া, যা কিনা মিত্র দেশের গাড়ি নির্মাতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ধাক্কা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। খবর এফটি।

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, তুরস্ক ও ব্রাজিলের মতো বড় বাজারে অ্যান্টি-ডাম্পিং বাধা তৈরি হওয়ায় চীনা গাড়ির অন্যতম গন্তব্য রাশিয়া। চায়না প্যাসেঞ্জার কার অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিসিএ) তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলো সরে যাওয়ায় গত বছর রাশিয়ায় চীনা গাড়ির রফতানি ২০২২ সালের তুলনায় সাতগুণ বেড়েছে।

সিপিসিএর সেক্রেটারি জেনারেল কুই ডংশু বলেন, ‘রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর স্থান পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে চীনা গাড়ি। যদি রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট শেষ হয়, তবে চীনা গাড়ি নির্মাতাদের ওপর চাপ নাটকীয়ভাবে বাড়বে।’

গত বছর ১০ লাখের বেশি চীনা গাড়ির গন্তব্য ছিল রাশিয়া, যা দেশটির পেট্রলচালিত গাড়ির রফতানির ৩০ শতাংশ। এ গাড়িপ্রবাহ চীনা ব্র্যান্ডগুলোকে রাশিয়ার বাজারে ৬৩ শতাংশ হিস্যায় পৌঁছে দিয়েছে, যা স্থানীয় ব্র্যান্ডের বাজার হিস্যাকে ২৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।

এখন রুশ কর্তৃপক্ষ এ প্রবাহের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। জানুয়ারিতে মস্কো একদফা রিসাইক্লিং ফি বাড়িয়েছে, যা আমদানির ওপর শুল্কের মতো কাজ করে। এতে অধিকাংশ যাত্রীবাহী গাড়ির জন্য ৭ হাজার ৫০০ ডলার নির্ধারণ করেছে, যা গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় দ্বিগুণ। ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১০-২০ শতাংশ হারে এ ফি বাড়ানো হবে।

গবেষণা সংস্থা রহোডিয়াম গ্রুপের বিশ্লেষক গ্রেগর সেবাস্টিয়ান বলেন, ‘রাশিয়া অন্যান্য দেশের মতোই চিন্তা করছে। তারা ভাবছে কম দামি চীনা গাড়ির প্রবাহ স্থানীয় উৎপাদকদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে চায় রাশিয়া। একসময় মনে করেছিল তাদের সামনে কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এখন বুঝতে পারছে দরকষাকষির মতো দরকারি বাজারশক্তি আছে। চীনা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার রাশিয়া।’

সম্প্রতি এক তদন্তে তিনটি শীর্ষ চীনা ট্রাক নির্মাতার বিরুদ্ধে সুরক্ষা মান ভঙ্গের প্রমাণ পেয়েছে এবং একটি মডেল রাশিয়ায় বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। রুশ কর্মকর্তারা আমদানীকৃত গাড়ির জন্য নতুন পরীক্ষা চালুরও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে সুইফেনহের মতো চীনের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত শহরগুলোয় প্রভাব ফেলবে। জ্বালানি তেল ও গ্যাস বাদ দিলে এটি রাশিয়ার জন্য চীনে বড় বাণিজ্য কেন্দ্র। ২০২০-২৪ সালে সুইফেনহে থেকে রাশিয়ায় রফতানি পাঁচগুণ বেড়ে ১৯০ কোটি ডলার হয়েছে। শহরটির একজন ব্যবসায়ী জানান, নতুন শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও